

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে অন্তত চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শত শত পরিবার। একই সঙ্গে রাস্তাঘাট, বসতঘর, ফসলি জমি ও মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (১৩ জুন) রাত থেকে টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভান্ডারুয়া, জামালপুর, এক্তিয়ারপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, সিমনা ছড়ার পাড় ভেঙে যাওয়ায় রাতারাতি পানি ঢুকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে, আবার কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কয়েকটি কাঁচা ও মাটির ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি সবজি এবং গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মৎস্যচাষীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ একর আউশ ধান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে তেলাইন্নাছড়া পাহাড়ি ঢলের পানিতেও ছড়ার দুই পাড় উপচে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর এবং জগদীশপুর ইউনিয়নের তেমুনিয়া এলাকার রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।