বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামে দুই দিনব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৪০

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
মাধবপুরের খড়কি গ্রামে দুই দিনব্যাপী সংঘর্ষ
expand
মাধবপুরের খড়কি গ্রামে দুই দিনব্যাপী সংঘর্ষ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খড়কি গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দুই দিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের কালা কারীর ছেলে আহমদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা নিয়ে যান। পরবর্তীতে ওই টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকেলে খড়কি গ্রামে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ চলাকালে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অপর পক্ষ এতে আপত্তি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাতভর এবং বুধবার (৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই দিনে ১৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বুধবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন