

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর এলাকায় ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে, যার ফলে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কমিটি আগামী ২৮ মার্চ শনিবার মাহফিল আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করেছিল। তবে আয়োজকরা জানান, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশ মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা শুরু করে। শুক্রবার মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে একটি ওয়াজ মাহফিলের ভুয়া পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে। এতে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তারা বিষয়টি জানতেন না। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চক্রটি ভুয়া পোস্টার তৈরি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে, যার ফলে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন, তার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী।
মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া জানান, মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই চক্র কাজ করেছে। প্রশাসনকে তারা জানিয়েছিলেন যে ১৪৪ ধারার কোনো প্রয়োজন ছিল না, তবুও এটি জারি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান ফেসবুকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম মাহফিল ও ভুয়া পোস্টার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃত মাহফিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ধর্মীয় আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য করুন