

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে নিম্নমানের খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্য সচিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান আহত হয়েছে। ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্বাধীনতা দিবস হলের অফিস কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত এ ঘটনার তদন্তের কথা জানিয়েছেন । একই সাথে পুনরায় আগামী সোমবার ফিস্টের আয়োজন এবং টোকেন বাবদ শিক্ষার্থীদের কছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তিতুমীর, স্বাধীনতা, বনলতা, অপরাজিতা ও বিজয় দিবস হলে পরিবেশিত ফিস্টে নিম্নমানের খাবার ও পচা ডিম দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে শহীদ তিতুমীর হলের একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে স্বাধীনতা দিবস হলের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে তারা সেখানে যায় । তখন কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে হাবিবুর রহমানের বাক-বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মার দেওয়া হয় । অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ।
হামলার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, আমি একজনের জন্য একটি খাবারের প্যাকেট নিতে নিচে নামি। তখন তিতুমীর হল থেকে কিছু শিক্ষার্থী স্বাধীনতা দিবস হলের গেটের সামনে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাচ করতে থাকে। আমি বলি, এই হলে এমন কেউ নেই। এরপর কয়েকজনের সঙ্গে আমার বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে আরও কিছু শিক্ষার্থী হলের অফিস কক্ষের সামনে আমার ওপর হামলা করে। হামলাকারীদের মধ্যে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ শিপলুসহ আরও অনেকে ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া মাহমুদ শিপলু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে, আমি এর সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নই। আমি হামলা করিনি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি মাত্র । সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে এটির সত্যতা মিলবে ।
স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, হাতাহাতির সময় আমি ও আমার অফিস সহকারী নামাজে ছিলাম। পরে ফিরে এসে শুনেছি কিছুটা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো পক্ষই এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
শহীদ তিতুমীর হলের প্রভোস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। মিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া হবে। সোমবার পুনরায় ফিস্টের আয়োজন করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম আহসান বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার বিষয়টি আমি জেনেছি। তার সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন । অভিযোগ পাওয়ার পর, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, “ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”