

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গোপালগঞ্জে এক স্কুলছাত্রী ও যুবককে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী অপমান ও লোকলজ্জায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত সোমবার ( ২৮ জুলাই) দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এ ঘটনার ৪ দিন পার হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর নাম রিংকি বাড়ৈ (১৩)। সে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় ইউনিয়নের বরইভিটা গ্রামের অমৃত বাড়ৈর মেয়ে ও রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পার্শবর্তী মুকসুদপুর উপজেলার ধর্মরায়ের বাড়ি গ্রামে দাদু (নানা) স্বপন মজুমদারের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। অপর ভুক্তভোগী যুবকের নাম সূর্য বাড়ৈ। সে কামিয়ানী উপজেলার রাহুথড় গ্রামের শিবনাথ বাড়ৈর ছেলে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই স্কুল চলাকালে রিংকিকে রাহুথড় বড় ব্রিজ থেকে ধরে ও সূর্যকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে বিদ্যালয় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ।
এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার , স্থানীয় যুবক জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চরম লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় রিংকি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে দাবি স্থানীয়দের। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত নয়ন গোলদার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার যুবকরা আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের দুইজনকে স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেই। তবে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না। পরে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাড়িতে আসছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘