

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন কবি খুব কমই আছেন, যাঁদের নাম উচ্চারণ করলেই একটি সম্পূর্ণ জীবনধারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন তেমনই একজন কবি, যাঁর কবিতায় গ্রামবাংলা কথা বলে, হাসে-কাঁদে এবং নিজের গল্প নিজেই তুলে ধরে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের অম্বিকাপুরে পল্লীকবির বাসভবন সংলগ্ন কবির সমাধিস্থলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁর ১২৩তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। তবে দেশে রাষ্ট্রীয় শোক চলমান থাকায় কর্মসূচি সংক্ষিপ্তভাবে শেষ করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জসীম ফাউন্ডেশন, প্রেসক্লাব, শিল্পকলা একাডেমি, সাহিত্য পরিষদ, শিক্ষা অফিস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে কবির রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, প্রফেসর এম এ সামাদ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি, নদী, মাঠ ও সাধারণ মানুষের সান্নিধ্যে। এই জীবন-অভিজ্ঞতাই তাঁর সাহিত্যকর্মে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।
‘নকশীকাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ারের ঘাট’ ও ‘কবর’সহ তাঁর অসংখ্য কবিতায় গ্রামবাংলার প্রেম, বেদনা, দারিদ্র্য ও মৃত্যুচেতনার গভীর প্রকাশ পাওয়া যায়। বিশেষ করে নকশীকাঁথার মাঠ গ্রামবাংলার নারীদের জীবনের এক করুণ ও বাস্তব দলিল হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অনন্য স্থান দখল করে আছে।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন লোকসংস্কৃতির একনিষ্ঠ সংগ্রাহক। জারি, সারি, ভাটিয়ালি, পালাগানসহ বহু লোকগীতি তিনি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা এবং বাংলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সাহিত্য আজও জীবন্ত, গ্রাম বদলালেও মানুষের অনুভূতি বদলায়নি, আর সেই অনুভূতির ভাষ্য হয়ে আজও বেঁচে আছেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীন।
মন্তব্য করুন
