

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাভারে সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতভর চলা এ সংঘর্ষে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সন্ধ্যায় ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলের সামনে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী থুতু ফেললে তা ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর গায়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রাত ৯টার দিকে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিলের একটি হোস্টেলে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্যাফোডিলের শতাধিক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। এরপর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। রাত ১২টার পর ড্যাফোডিলের কিছু শিক্ষার্থী সিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে প্রশাসনিক ভবন, কম্পিউটার ল্যাবসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এসময় কয়েকটি বাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তবে গুরুতর কেউ আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চললেও শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল, যা এখন সহিংস আকার ধারণ করেছে।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে- ‘সহপাঠীদের ওপর হামলা, সম্পদ ধ্বংস কিংবা আগুন দেওয়া কোনোভাবেই ছাত্র আন্দোলনের অংশ হতে পারে না।’ সংগঠনটি উভয় পক্ষের দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সাভার থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি যাতে পুনরায় উত্তেজনা না ছড়ায়।’
মন্তব্য করুন
