

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে সেই তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ওই তরুণী শুক্রবার বিকেলে জানিয়েছেন তিনি এখন সুস্থ আছেন।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে একটি বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন। তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।
নম্বর প্লেটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থার সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।
মোটরসাইকেল মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও যিনি চালকের আসনে ছিলেন তার বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। তার নামের শেষাংশে ‘আলম’ আছে। এই যুবক বাইকে থাকা তরুণীর স্বামী পরিচয় দিচ্ছেন, যদিও এই তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বাইকে থাকা তরুণীর বড়বোনের স্বামী জানিয়েছেন, ‘মিতু (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করে নাই। সেদিন আমরা স্বামী-বউ ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে ও রাগ কর চলে যায়। তারপর ওই ছেলের সঙ্গে হয়তো ড্রিংকস করে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো বাসায় দিয়ে যায়।’
আলম তার স্বামী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’
এই তরুণী আগে দুটি বিয়ে করেছেন। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ করেছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেসব যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তার বড় বোনের স্বামী দাবি করেন, বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম আর তার বন্ধু মেয়েটিকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তাকে রেখে বোনকে ফোন দেন আলম।


