

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার কেরানীগঞ্জে কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় ইমানউল্লাহ মাস্তান নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। আগামীকাল সোমবার রিমান্ড বিষয়ক শুনানি দিন ধার্য্য করেছে আদালত।
জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ইমান উল্লাহ মাস্তান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি সদস্য।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার রাতে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেন। শনাক্ত হওয়া তিনজন হলেন- মঞ্জু বেগম (৩৬), শাহীনুর বেগম (৩৫) ও মীম আক্তার (১৬)।
স্বজনরা জানান, হাতে থাকা চাবির গুচ্ছ ও চুলের ক্লিপসহ ব্যক্তিগত আলামত দেখে মরদেহগুলো শনাক্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারের আহাজারিতে মর্গ এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতদের পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, মঞ্জু বেগম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এবং কারখানার পাশেই বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে সাব্বির হোসেন বলেন, “মায়ের হাতে থাকা চাবির গুচ্ছ দেখে লাশ শনাক্ত করেছি। আমরা এই মৃত্যুর বিচার চাই।”
শাহীনুর বেগমের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। তাঁর বাবা আজিজ কাজী জানান, “চুলের খোঁপার ক্লিপ দেখে মেয়েকে চিনতে পেরেছি।”
নিহত মীম আক্তারের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলায়। তাঁর স্বামী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তিন বছরের শিশুসন্তানটি এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল, ফলে শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। তারা এ ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যা’ উল্লেখ করে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ইমান উল্লাহ মাস্তান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় অবস্থিত একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেলে তা পুরোপুরি নেভানো হয়।
এই ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ও কারখানা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
মন্তব্য করুন