

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি অবৈধ লাইটার গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই মৃত্যুর মিছিলের মাঝে সবথেকে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ বছরের কিশোর নাইমের নিখোঁজ হওয়া। আগুনের লেলিহান শিখা নিভে গেলেও নাইমকে খুঁজে না পেয়ে তার মায়ের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে কেরানীগঞ্জের বাতাস। নাইমের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই বুক ফাটা আর্তনাদে সন্তানকে খুঁজছেন তিনি। ছোট্ট নাইম পেটের দায়ে এই কারখানায় কাজ করতে এসেছিল, কিন্তু সেই কর্মস্থলই যে তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ ভাবেনি। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস পৌনে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ভেতর থেকে একে একে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে। তবে প্রিয় সন্তানের নিথর দেহটি শনাক্ত করার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছেন তার স্বজনরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম বাহার, মামুন অভিযোগ করে বলনে, এই কারখানায় এর আগেও আগুন লেগেছিল। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে এটি চালানো হচ্ছিলো। পানি স্বল্পতার কারণে দমকল বাহিনীকে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস এখনও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ জানিয়েছেন, কারখানাটির কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিলো না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও তিন শ্রমিককে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
মন্তব্য করুন