


কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক নেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে। লোহার রড, খন্তা ও লাঠি দিয়ে হামলা করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন (৩৪)।
হামলার সময় তার কাছে থাকা ভাতিজির বিয়ের ফার্নিচার কেনার জন্য রাখা ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার দিকে পিএমখালীর বাংলাবাজার নয়াপাড়া এলাকার ভাই ভাই হোটেলের সামনে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় জসিম উদ্দিনের ডান হাতের কব্জির হাড় ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পিএমখালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক। তিনি পিএমখালীর গোলারপাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক মৌলভী মোহাম্মদ হোসাইন ওরফে মৌলভী বকশোর ছেলে।
এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে পিএমখালীর মধ্যম নয়াপাড়ার মৃত মোক্তার আহমদের ছেলে শামশুল হুদা, পূর্ব গোলারপাড়ার লিয়াকত আলী, তাঁর ছেলে শওকত আলী, রাশেলসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও জসিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি বাংলাবাজার কাজী অফিসে একটি কাবিন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে শাহাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ভাতিজির বিয়ের জন্য ফার্নিচার কেনার উদ্দেশ্যে সুইচগেট এলাকার দিকে রওনা হন। বিকেল চারটার দিকে তারা বাংলাবাজার নয়াপাড়া এলাকার ভাই ভাই হোটেলের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন।
জসিমের ভাষ্য, হামলাকারীরা আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন।
এজাহারে জসিম দাবি করেছেন, ঘটনার আগের তিন থেকে চার দিন ধরে অভিযুক্ত কয়েকজন বাংলাবাজার স্টেশন এলাকায় তাকে খুঁজছিলেন। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তবে ভাতিজির বিয়ের ফার্নিচার কেনার জন্য তার কাছে ২ লাখ টাকা থাকায় প্রয়োজনীয় কাজে সেদিন বাড়ি থেকে বের হন।
জসিমের অভিযোগ, পথরোধ করার পর হামলাকারীরা তাকে লোহার রড, খন্তা ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে একজন লোহার খন্তা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। গুরুতর আঘাত থেকে বাঁচতে তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করলে খন্তার আঘাত তার ডান কব্জিতে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, আরেকজন লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে সেটি তার বাম কাঁধে লাগে। পরে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে সেটিও হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন তিনি। এতে বাম হাতের তালুতেও জখম হয়।
শুধু মারধর নয়, একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন জসিম উদ্দিন। তার ভাষ্য, হামলাকারীদের একজন তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন। হামলার একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় জসিম উদ্দিনের প্যান্টের পকেটে থাকা ২ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে মামলায়।
জসিমের দাবি, ভাতিজির বিয়ের ফার্নিচার কেনার জন্য ওই টাকা তিনি সঙ্গে নিয়েছিলেন। হামলার একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার পকেট থেকে টাকা নিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকেরা এক্স-রে করে তার ডান কব্জির হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে জসিম উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তার।
জসিমের দাবি, এর আগে তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ কয়েক দিন ধরে তাকে খুঁজে বেড়ানোর পর প্রকাশ্য সড়কে হামলার ঘটনা ঘটে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলার কয়েকজন আসামিকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। বিরোধে জড়িয়েও অনেকে পরে সমঝোতা করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, এ ধরনের ঘটনার কারণে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ জসিম উদ্দিনের ওপর প্রকাশ্য সড়কে হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ওসি বলেন, মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।