

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়ার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারী ও ডাকাতচক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ওই চক্রের হাতে বন্দি ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ভোরে টেকনাফ ২ বিজিবির একটি বিশেষ দল এই অভিযান চালায়। পরে দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান।
আটক ব্যক্তির নাম মো. রুবেল (২০)। তিনি টেকনাফের রাজারছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হোছনের ছেলে।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজারছড়ার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অস্ত্রধারী মানবপাচার চক্রের এক সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়। তার কাছ থেকে চারটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও কিছু গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চক্রের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
বিজিবির এ অভিযানে মানবপাচার চক্রের হাতে আটক ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি এবং দুজন রোহিঙ্গা।
উদ্ধারকৃতরা হলেন- টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়া এলাকার জিয়াবুল হোসেনের ছেলে রাসেল (১৭), রামু খুনিয়াপালং এলাকার মো. সুলতানের ছেলে শাহরিয়াজ ইমন (১৯), উখিয়ার জালিয়াপালং মনখালি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকের ছেলে মো. ফয়সাল (১৭), মনখালির মো. ইলিয়াসের ছেলে মো. এহসান (১৬), বালুখালি ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হাসিম উল্লাহর ছেলে নজিম উল্লাহ (১২) এবং একই ক্যাম্পের জাফর আলমের ছেলে শহিদুল আমিন (১৫)।
উদ্ধার হওয়া তরুণদের বরাত দিয়ে বিজিবি জানায়, মানবপাচারকারীরা রাজমিস্ত্রীর কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাহাড়ে ডেকে নেয়। পরে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন দিন ধরে পাহাড়ের ভেতরে বন্দি করে রাখে। অভিযান চালিয়ে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে টেকনাফে নিয়ে আসে।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, আটক মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজারছড়ার পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে মানবপাচার ও অস্ত্র চক্র। মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তারা নিম্ন আয়ের তরুণ ও রোহিঙ্গাদের ফাঁদে ফেলছে। বিজিবির সাম্প্রতিক অভিযানে এসব চক্রের কার্যক্রম আরও একবার উন্মোচিত হলো।
মন্তব্য করুন