

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী অর্থবছরের বাজেটে মদ, সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করায় বিরোধীদল ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭টি পণ্যে কর কমানো হলেও বিরোধীদল সে বিষয়ে একটি কথাও বলছে না। এতে স্পষ্ট হয়, সাধারণ মানুষের স্বার্থ নয়, বিশেষ কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মদ, সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে বলে বিরোধীদল মিছিল-সমাবেশ করছে। তারা বলছে এই বাজেট মানে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭টি পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, সেটি তারা কোথাও বলছে না। এতে বোঝা যায়, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না, বরং একটি বিশেষ শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত।
তিনি বলেন, বিরোধীদলের অযৌক্তিক সমালোচনায় সরকার বিচলিত নয়। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে আবাদযোগ্য করে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তিনি বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে জিয়াউর রহমান এই পাতলী খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং হাজারো কৃষক উপকৃত হয়েছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়েছে, অনেক অংশ দখল হয়ে গেছে। ফলে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আজ পুনঃখননের মাধ্যমে খালটিকে আবারও জীবন্ত করা হচ্ছে। এতে পূর্বের মতো কৃষিকাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এলাকার অর্থনীতি চাঙা হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি জানান, সরকার দেশজুড়ে প্রায় ৪০ হাজার মিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কৃষক লাভবান হলে দেশ লাভবান হবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, স্বনির্ভরতা শক্তিশালী হবে। কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের দল। দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, দরিদ্র কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি ও কৃষি সহায়তা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে জনগণকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
বাঁকখালী নদী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন এমপি কাজল পথসভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের নাম বাঁকখালী নদী। নদীর ভাঙনে প্রতিবছর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক কৃষকের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
তিনি নদীর দুই তীরে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। খালটি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। সকাল থেকেই খালপাড়সহ আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ।
বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেন নারী, পুরুষ ও তরুণদের বিপুল সমাগম।
এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বিমানবন্দরের বাইরে আগে থেকেই অবস্থান নেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী। স্লোগান, ব্যানার ও পতাকা নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে পাতলী খালের কর্মসূচি শেষ করে দুপুরের আগে চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।