

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাতভর মিয়ানমারের ভেতরে চলা তীব্র গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছে বাংলাদেশের উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১১টার পর থেকেই গুলির শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত গোলাগুলির তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘর থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। থেমে থেমে শুক্রবার ভোর পর্যন্তও গুলির শব্দ শোনা যায়। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার আলো নিভিয়ে ঘরে বসে রাত কাটায়।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, ধামনখালী, থাইংখালী, বালুখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিমপাড়া গ্রামগুলোতে একই রকম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মানুষও পুরো রাত জেগে কাটিয়েছে।
রহমতের বিল গ্রামের বাসিন্দা স্বাধীন নামের এক যুবক বলেন, “মিয়ানমারের ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষ। কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়ে থাকতে পারে।”
বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা বাবুল আহমদ জানান, “রাত ১২টার দিকে সীমান্তের ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। এরপর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাতে ঘুমাতে পারেননি।”
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল আলম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত এপারে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয় সূত্র ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মতে, রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র তা নিশ্চিত করেনি।
ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু পশ্চিমকুলের বাসিন্দা তহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, “সীমান্তের ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছে। এতে ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারিনি।”
দোকানদার আবদুর রহিম জানান, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলা হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। ভয়ে ও আতঙ্কে রাতে কেউ ঘর থেকে বের হয়নি।”
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সংঘর্ষ সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের ভেতরে ঘটছে এবং তা সীমান্ত থেকে বেশ দূরে। ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সীমান্তে গুলির শব্দ শোনা গেলেও বাংলাদেশে গুলি আসার সম্ভাবনা নেই।” তিনি আরও বলেন, “যেসব ছবি ও গুজব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। আহত রোহিঙ্গার বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায়ই এমন গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয়দের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। রাতভর আতঙ্কে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা অনেক সময় ঘুমাতে পারেন না। এতে দৈনন্দিন কাজ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়। অনেক সময় স্থানীয় বাজার বন্ধ হয়ে যায় এবং সীমান্তে কৃষিকাজও বাধাগ্রস্ত হয়।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি চলছে বলে শুনেছি। স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
মন্তব্য করুন