

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সেন্টমার্টিনে সরকারি চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এক রোহিঙ্গা নাগরিকের অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরকারি নথিপত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন এবং সরকারি কর্মীর পরিচয়ে চাকরি নেন।
অভিযুক্তের নাম আব্দুল আজিজ। তিনি বর্তমানে সেন্টমার্টিন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জেলা পরিবেশ অধিদফতরের মেরিন পার্কে চুক্তিভিত্তিক আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবেও কাজ করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
নথি অনুসারে, আজিজ মূলত মিয়ানমারের নাগরিক মো. আব্দুলের ছেলে। ১৯৯২ সালে তার বাবা-মা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তার পিতা মারা গেলে, আজিজের মা স্থানীয় বাসিন্দা আলী আহমদকে বিয়ে করেন।
২০১৭ সালে আজিজ আলী আহমদকে পিতা ও নুর নাহারকে মাতা দেখিয়ে জন্মনিবন্ধন করেন এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন। জন্ম সাল উল্লেখ করা হয় ১৯৯২ সাল—যে বছর তার পরিবার বাংলাদেশে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের এক সাবেক মেম্বারের সহায়তায় আজিজ এনআইডি সংগ্রহ করেন। তবে ওই সাবেক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সহযোগিতা করিনি, হয়তো অন্যদের মাধ্যমে করেছে।
কোনপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে আজিজ নিজেকে স্থানীয় নাগরিক পরিচয়ে সরকারি চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।
সম্প্রতি একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে তিনি পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা পরিচয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বসন্ত দে জানান, সে এসে বলে, সমস্যা করব না, তবে সিমেন্ট, তেল আর ১০০ বস্তা বালু দিতে হবে; পরে ভয়ও দেখায়।
২০২২ সালে একসঙ্গে দুই দপ্তরে চাকরি করার অভিযোগে জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে আজিজকে বরখাস্ত করে। পরে অঙ্গীকারনামা দেওয়ার পর তাকে আবার পরিবেশ অধিদফতরে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি চাকরি বিধির পরিপন্থী।
যোগাযোগ করা হলে আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব কাগজ বৈধভাবে করেছি, কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আলী আহমদ তার প্রকৃত পিতা নন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ভুল তথ্য দিয়ে এনআইডি তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, আজিজের রোহিঙ্গা পরিচয় সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে উচ্চপর্যায়ে জানানো হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন, রোহিঙ্গা পরিচয়ে এনআইডি তৈরি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ দুটিই গুরুতর। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
