

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এলাকায় কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলে সাহসিকতার জন্য পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসন থেকে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে কাজল লেখেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। কেউ এমন অপচেষ্টা করলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।
আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার।
পৃথক আরেকটি পোস্টে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। সেখানে কাজল লেখেন, বিজয় মানে প্রতিপক্ষকে হেয় করা নয়। সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়।
মহানুভবতার সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাবে বিজয় উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কারও ওপর চাপ সৃষ্টি বা ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনিও চাঁদাবাজদের আইনের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের এমন অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত মেম্বার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তার আত্মীয় বা পরিচিত কেউ তার নাম ব্যবহার করে কোনো অপরাধ করলে তার দায় তিনি নেবেন না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সংবাদদাতার পরিচয় গোপন রাখার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও লেখেন, অপরাধী যদি তার ঘনিষ্ঠজনও হন, তবু ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে এসব ঘোষণার পর সদরের খরুলিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় মাইকিং করতে দেখা গেছে স্থানীয় যুবদল নেতাদের। উপজেলা যুবদলের নেতা ইনু মোহাম্মদ ইউনুস হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন, নবনির্বাচিত সাংসদের নির্দেশে এলাকায় জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেউ মাদক ব্যবসা বা হায়রানির সঙ্গে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এলাকাবাসীর কাছে যেকোনো অভিযোগ সরাসরি জানাতে অনুরোধও করা হয়।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা এড়াতে এবং সম্ভাব্য চাঁদাবাজি বা প্রতিহিংসামূলক তৎপরতা ঠেকাতে এ ধরনের প্রকাশ্য ঘোষণা ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে এসব ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার ওপর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে নির্বাচন-পরবর্তী স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এখন নজর থাকবে ঘোষণাগুলো মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয়।
মন্তব্য করুন
