রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদের উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ কী, কীভাবে পরিচালিত হবে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর সংস্কারের ওপর গণভোট শেষ হয়েছে। এ নির্বাচনে ২১২ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা।

এবারের সংসদ বাংলাদেশের ইতিহাসে ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে। এতদিন এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জেতায় এবার গঠিত হচ্ছে দুই কক্ষের সংসদ; নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ।

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী সদস্য নিয়ে গঠিত হবে নিম্নকক্ষ। অপরদিকে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে প্রথম অধিবেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে।

প্রথম ১৮০ দিন নিম্নকক্ষের সদস্যরা সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এই কক্ষের মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত।

উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন, আবার পরোক্ষ নির্বাচন বা মনোনয়ন পদ্ধতিও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ, নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আলাদা বিধান রাখার কথাও আলোচনায় রয়েছে।

উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী আসন বণ্টন হবে। যেমন, কোনো দল ৪০ শতাংশ ভোট পেলে ১০০ আসনের মধ্যে তারা পাবে ৪০টি আসন।

সংসদ রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ ফোরাম। এখানেই বিল উত্থাপন, আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে আইন পাস হয়। কর আরোপ কিংবা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সংসদের অনুমোদন আবশ্যক। তবে পাস হওয়া প্রতিটি আইনে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

সংসদ পরিচালনা করেন স্পিকার এবং এক বা একাধিক ডেপুটি স্পিকার। একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বান করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কার্যকর অধিবেশন পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি বা ‘কোরাম’ আবশ্যক। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থায় নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন লাগবে।

নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দ্বিকক্ষ সংসদের এই নতুন কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং আইন প্রণয়নে কী ধরনের পরিবর্তন আনে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X