

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরের বুকে ছোট্ট প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। বছরের কয়েকটি মাস পর্যটকের ভিড়ে মুখর থাকে এই দ্বীপ। কিন্তু এবার সেই কোলাহল থেমে যাচ্ছে দীর্ঘ নয় মাসের জন্য। পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে রোববার থেকে।
শনিবার চলতি মৌসুমের শেষদিনে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো দ্বীপে যাতায়াত করছে। এরপর নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে জীববৈচিত্র্য রক্ষার আশাবাদ থাকলেও, পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসীর মনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার ছায়া।
সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ থাকে। কিন্তু এবার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। নভেম্বর মাসে রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল। ফলে পর্যটনের ভরা মৌসুমেও প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
দ্বীপের প্রায় সব মানুষ কোনো না কোনোভাবে পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত। হোটেল, কটেজ, রেস্তোরাঁ, ভ্যান-রিকশা, গাইড, নৌযান- সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের সংসার।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। সময়টা আর একটু বাড়ানো গেলে মানুষ অন্তত কিছুটা প্রস্তুতি নিতে পারত।
হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, এবার অনেকেই খরচ তুলতেই পারেননি। অনেকে ঋণ করে ব্যবসা চালিয়েছেন। এখন নয় মাস বন্ধ থাকলে সেই ঋণ শোধ করাই বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়াবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে গেছেন। তাতে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আনুমানিক এক লাখ বিশ হাজার। কিন্তু সময় কমে যাওয়ায় সেই ভিড় থেকেও স্থানীয়রা তেমন লাভের মুখ দেখেননি।
দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিমের কণ্ঠে দুশ্চিন্তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ। কাল থেকে আবার মাছ ধরতে যেতে হবে। রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছি, কিন্তু দুই মাসেও টাকা তুলতে পারিনি। এখন কিস্তি দেব কীভাবে, সেটাই চিন্তা।
কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, বাইরের কিছু সিন্ডিকেট আর বড় বিনিয়োগকারীরা লাভ করেছে, কিন্তু স্থানীয়রা তেমন কিছু পায়নি। তার ওপর সরকারের কড়াকড়িতে সবচেয়ে বেশি চাপ আমাদের ওপরই পড়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, শনিবার পর্যন্ত জাহাজগুলো পর্যটক নিয়ে যাতায়াত করবে। রোববার থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলবে না। পরে সরকার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনে সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে গান বাজানো, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল বা যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচলও বন্ধ থাকবে। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক না আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শও রয়েছে।
দ্বীপের ব্যবসায়ীরা মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত আরও কয়েক মাস সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন চালু থাকলে অন্তত কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। প্রবাল আর নীল জলের এই দ্বীপে এখন নেমে আসছে দীর্ঘ নীরবতা। পরিবেশ
মন্তব্য করুন
