

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে মহিলা জামায়াত, যুব জামায়াত ও ছাত্রশিবির কর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে ঝিকরগাছা বাজারে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মহিলা জামায়াতের ১০-১২ জন কর্মী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের প্রচারে বাধা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, নারী কর্মীদের হেনস্থা ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে যুব জামায়াত ও শিবিরের ৮-১০ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
শিবির নেতা মুস্তাকিম অভিযোগ করেন, ঘটনার ছবি তুলতে গেলে বিএনপি কর্মীরা তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। হামলার সময় বিএনপি কর্মীদের হাতে এসএস পাইপ, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও ধারালো দা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, পরে ১২-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হামলা চালিয়ে মোবাইল ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
ঘটনায় আহত হয়েছেন শিবির নেতা মুস্তাকিম ও বায়জিদ এবং যুব জামায়াত নেতা জহিরুল ইসলাম। তারা ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৪টায় ঝিকরগাছা বাজারে বিশাল নারী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ঝিকরগাছা কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল শুরু হয়ে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাদ্রাসায় গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, “ভোটের মাঠে বাধা ও হামলা চালিয়ে বিএনপি সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
সমাবেশে নারী নেত্রী ফিরোজা ইয়াসমিন বিউটিসহ জামায়াত, এনসিপি ও শিবিরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা পাল্টা দাবি করেন, “জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।