সোমবার
২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই দিনের রিমান্ডে শিবির নেতা জিসান

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
শিবির নেতা জিসান
expand
শিবির নেতা জিসান

ফেসবুকের প্রেম, অতঃপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জিসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছিল। কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় গত মঙ্গলবার জিসানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। জিসান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত ১১ জুন রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন জিসান। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দাবি করা হয়—তাকে অপহরণ বা গুম করা হয়েছে। তবে তার ঠিক পরদিনই লাকসাম জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর অসুস্থতার কথা বলা হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত মঙ্গলবার তাকে পুরোপুরি সুস্থ ঘোষণা করে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকেরা।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করেন জিসান।

ভুক্তভোগী নারী সুস্থ হয়ে বিয়ের চাপ দিলে গত ১২ জুন (শুক্রবার) তাদের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়। কিন্তু বিয়ে এড়াতে তার আগের দিন অর্থাৎ ১১ জুন রাতে জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়ে ‘নিখোঁজের নাটক’ সাজান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী মামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তারিখগুলোর মধ্যে অসংগতি রয়েছে। অভিযোগটি সম্পূর্ণ সাজানো। আমরা আদালতে রিমান্ডের জোর বিরোধিতা করেছি।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও সংবেদনশীল। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামির মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি ছিল। আশা করছি, রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
Belgium VS Iran
49'
0 - 0
World Cup