রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় শিক্ষার্থী ফারিয়ার মৃত্যু, আদালতে আত্মসমর্পণে এসে স্বামী কারাগারে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

কুমিল্লায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়। তবে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই মামলার অপর চার আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মমিন এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফারিয়ার স্বামী হৃদয়, তাঁর বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম, বোন রীমা আক্তার ও ভগ্নিপতি জাকারিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন।

গত বুধবার রাতে ফারিয়ার বাবা ও পেশায় স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের দেশওয়ালীপট্টি এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ফারিয়া ও হৃদয়ের পরিচয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই হৃদয় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা এনে দিতে না পারায় ফারিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ফারিয়ার বাবা মো. হানিফ দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করার মতো না। তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। রিমান্ডে নিলে সবকিছু বের হয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, প্রধান আসামি হৃদয়ের জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছেন। তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন