

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট পরিচালনা ও অশ্লীল কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে বান্দরবান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বান্দরবানের একটি আবাসিক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার দম্পতি বিদেশভিত্তিক কয়েকটি ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন এবং দেশের ভেতর থেকেই অন্যদের এই কার্যক্রমে যুক্ত করার চেষ্টা করতেন।
তদন্তে জানা গেছে, ওই ওয়েবসাইটগুলোতে নতুন মানুষ যুক্ত করলেই কমিশন বা লাভ দেওয়া হতো। এভাবে দম্পতি বাংলাদেশে বসে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া পুরুষটির সঙ্গে থাকা নারী তার তৃতীয় স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন এবং বিয়ের পর থেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক এর আগেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। গত ২৩ আগস্ট সিএনজি অটোরিকশা চুরির অভিযোগে তাকে ও তার এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মাদক মামলায় তার নামে চলমান ওয়ারেন্টও রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় দম্পতিকে আটক করার পরই তাদের অনলাইন কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের মে মাসে তারা প্রথম ভিডিও প্রকাশ করেন। এরপর এক বছরের মধ্যে অন্তত ১১২টি ভিডিও আপলোড করা হয়, যা দেখা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ বারেরও বেশি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার যুবকের বাবা পেশায় অটোরিকশাচালক। পরিবারটি সমাজ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। চার বছর আগে যুবকটি বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং দুই বছর আগে ওই নারীকে নিয়ে ফিরে এসে তাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়।
এক প্রতিবেশী জানান, ওদের পরিবারের সঙ্গে কেউ মেশে না। নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে সবাই দূরে থাকে। কয়েক দিন আগে ফেসবুকে খারাপ ভিডিও ছড়ানোর খবর দেখে চমকে গেছি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, “এই পরিবারটি আগে থেকেই সমাজবিরোধী কাজে জড়িত। কিছুদিন আগে সিএনজি চুরির অভিযোগে সালিশও হয়েছিল। এখন এ ধরনের ঘটনায় তারা গ্রেপ্তার হয়েছে-এটা প্রত্যাশিত।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের বিরুদ্ধে মাদক মামলা এবং অটোরিকশা চুরির অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। সিআইডি বর্তমানে তাদের অনলাইন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে।
গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে এই দম্পতি অনলাইনে সক্রিয় হন। এক বছরে তারা শতাধিক ভিডিও প্রকাশ করে বিপুল অনুসারী তৈরি করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারা শুধু একটি নয়, একাধিক ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম) কনটেন্ট প্রচার করতেন। তাদের নামে খোলা একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে, যেখানে ভিডিও লিংক ও আয়ের স্ক্রিনশট শেয়ার করা হতো।
এ ছাড়া তরুণদের এ ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করতেও তারা সক্রিয় ছিলেন। অনলাইনে দেওয়া কিছু পোস্টে লেখা ছিল, নতুন ক্রিয়েটর যুক্ত করুন, আয় করুন ডলারে।
সিআইডি জানিয়েছে, দম্পতির ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশ থেকেই একটি আন্তর্জাতিক পর্ন নেটওয়ার্কে কাজ করছিলেন।
মন্তব্য করুন
