শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আধিপত্যের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ইয়াবা মুরাদ’

সাহিদুল ইসলাম মাসুম
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় যুবদলের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসা, দখল, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মো. মুরাদ ওরফে ‘ইয়াবা মুরাদ’-এর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, দলীয় কোনো পদে না থাকলেও তিনি নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক হিসেবে পরিচয় দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় তার হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।

জেল থেকে বের হওয়ার পর মুরাদ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এরপর এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া, দখল ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দলীয় সদস্যপদসহ তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই কোনো এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চকবাজার থানায় ইয়াবা ও চুরির মামলা, কোতোয়ালি থানায় চুরির মামলা এবং বাকলিয়া থানায় ডাকাতির মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকায় একটি ভবন নির্মাণের জন্য আনা পাঁচ হাজার ইটসহ পিরোজপুর-ড-১১-০২৭৮ নম্বরের একটি গাড়ি আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে মুরাদের বিরুদ্ধে। এ সময় গাড়ির চালক ও হেলপারকে মারধরেরও অভিযোগ রয়েছে। পরে গাড়ির মালিক বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় মুরাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া গত এক বছরে বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদার দাবিতে গ্যারেজে ভাঙচুর, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, মুরাদ নগরীর ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাসান লিটনের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে মুরাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। তিনি বলেন, মুরাদ যুবদলের কোনো পদে নেই এবং কখনো ছিলেনও না। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

সর্বশেষ ১৪ আগস্টের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিষয়ে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল কবির জানান, ‘ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মুরাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মুরাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন