

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাদিয়া ইসলাম মায়া (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত সাদিয়া ইসলাম মায়া সীতাকুণ্ড পৌরসভার হাসান গোমস্তা মসজিদ সংলগ্ন কাউন্সিলর বাড়ি এলাকার আবুল হাশেমের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ অবস্থায় মায়াকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেন।
এ সময় কিশোরীর গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তারা দাফনে বাধা দেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কিশোরীর মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত দাফনের চেষ্টা করা হলেও গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মা-বাবার দাবি, মায়া স্ট্রোক করে মারা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ পারিবারিক বিরোধ কিংবা নির্যাতনের কারণে কিশোরীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা আবুল হাশেমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।


