

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই কক্ষের দরজার কাছে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৪)কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তাঁদের ১০ মাস বয়সী কন্যাশিশু ফাতিহা আক্তারকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘হোটেল রিলাক্স জোন’-এর ১০৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর ২টার দিকে আমিনুল ইসলাম স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে হোটেলটিতে আসেন। পরে তাঁরা ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে তাঁরা দুবার হোটেল থেকে বাইরে যান এবং পরে আবার কক্ষে ফিরে আসেন।
হোটেল ম্যানেজার সোহানের ভাষ্য, সকালে তাঁদের কক্ষে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ডাকাডাকি করা হয়। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পাওয়ার পর বিষয়টি অন্য কর্মচারীদের জানানো হয়। একপর্যায়ে ভেতর থেকে তাহমিনা আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। পরে কক্ষে প্রবেশ করে খাটের পাশে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান হোটেলকর্মীরা।
খবর পেয়ে মীরসরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাহমিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে আমিনুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে নিরাপদ হেফাজতে নেয় পুলিশ।
নিহত আমিনুল ইসলাম মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।
মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, আমিনুলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী কীভাবে রক্তাক্ত হয়েছেন—এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
এদিকে নিহত পুলিশ সদস্য বর্তমানে কোথায় কর্মরত ছিলেন, সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।