

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা চারদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হালদা, ধুরুং ও সর্তাসহ উপজেলার প্রধান প্রধান নদী ও খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দুপুর থেকে উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের চলমান নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ৮ জুলাই বুধবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার অধিকাংশ নিচু এলাকা ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা সড়কের একাধিক অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম 'নাজিরহাট-কাজিরহাট' সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বন্যার পানিতে উপজেলার পাইন্দংয়ের ফকিরাচাঁন, রোসাংগিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, সমিতিরহাট, সুয়াবিল, বক্তপুর, আব্দুল্লাহপুর এবং হারুয়ালছড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার শত শত একর আবাদি জমি এখন পানির নিচে। এতে চলতি মৌসুমের আমন ধানের বীজতলা এবং চাষাবাদকৃত শীতকালীন ও বারোমাসি শাকসবজির ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং উপজেলার বিভিন্ন খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেই এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরা চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটে পড়েছেন।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের কারণে হালদা নদী ও ধুরুং খালের বেড়িবাঁধের কয়েকটি অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফাটল ও ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে তীব্র গতিতে পানি ঢুকছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত এই বাঁধগুলো মেরামত করা না হলে পুরো উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটতে পারে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার মোট ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য ওষুধ, খাবার স্যালাইনসহ পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্গত এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা স্পিডবোট ও নৌকার সাহায্যে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করছেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনো খাবার ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, "আমরা সার্বক্ষণিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং নদী-খালের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো পরিদর্শন করছি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো তদারকি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি এবং দুর্গত মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণের সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।"