মঙ্গলবার
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪১৭ লিটার ডিজেলের কাজ করবে ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে বসানো হলো ইউরেনিয়াম। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে ইউরেনিয়াম স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে যুক্ত হলো নতুন সম্ভাবনা।

জ্বালানি হিসেবে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার দিন যখন ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে, তখন ইউরেনিয়ামের যুগের চূড়ান্ত সোপানে পা রেখেছে বাংলাদেশ।

জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র সাড়ে ৪ গ্রামের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট দেবে অবিশ্বাস্য সক্ষমতা। ওই পরিমাণ ইউরেনিয়ামে প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান শক্তি দেবে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানান হয়, নিউক্লিয়ার ফুয়েলের শক্তি অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এই ক্ষুদ্র আকারের মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে তার জন্য কয়লা লাগবে ৪শ কেজি, গ্যাস লাগবে ৩৬০ ঘনমিটার।

ডিজেলের মতো জ্বালানি পোড়াতে হবে সাড়ে তিনশ কেজি বা প্রায় ৪১৭ লিটার। অর্থাৎ এক কেজি নিউক্লিয়ার জ্বালানির সক্ষমতা ৬০ টন জ্বালানি তেল আর ১শ টন কয়লার সমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তাই হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে আলোচিত এবং উদ্বেগের ইস্যু। এ কারণে পারমাণবিক জ্বালানি এমনভাবে তৈরি, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ব্যবহার হয় যাতে এটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে না পড়ে।

এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্থাপিত নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরের বহু স্তর নিরাপত্তার প্রথম ধাপটি হলো ফুয়েল পেলেট। এই ফুয়েল পেলেট সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়। ফলে তেজস্ক্রিয়তা পেলেটের ভেতরেই আবদ্ধ থাকে। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে এই পেলেট জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের তৈরি আস্তরণ দ্বারা মোড়ানো থাকে। কোনো কারণে তেজস্ক্রিয়তা ফুয়েল পেলেট থেকে বের হলেও আস্তরণ ভেদ করতে পারে না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন