

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও কৃষকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। গত বছরের মতো এবারও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষীরা। পাশাপাশি হিমাগারে জায়গা সংকট দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩টি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়নে ব্যাপক পরিসরে আলু চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব পৌরসভা, নারায়ণপুর পৌরসভা, উপাধি উত্তর ও দক্ষিণ, নায়েরগাঁও উত্তর ও দক্ষিণ এবং খাদেরগাঁও ইউনিয়নে মোট ১,৯০৭ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। অন্যদিকে মতলব উত্তর উপজেলার বোরচর, চর উমেদ, চর কাশিম, বালুরচরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৮ টন।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার বোরচর, চরকাশিম, চর উমেদ এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার ডিঙাভাঙা, দগরপুর, দিঘলদী, নারায়ণপুর, আশ্বিনপুর, খরগপুর, পাঠান, পিতাম্বরদ্দী, আধারা, খিদিরপুর, কাজিয়ারা ও নায়েরগাঁও এলাকায় কৃষকরা খেত থেকে আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই সরাসরি মাঠ থেকেই আলু হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য পাঠাচ্ছেন।
আয়-রোজগারের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে আলু ঘরে তুলছেন কৃষকরা। ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা এবং নৌপথে নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে আলু পরিবহন করে হিমাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মতলব উত্তরের বোরচর এলাকার কৃষক আমান উল্ল্যা (৩৫) বলেন, এ বছর আমি ১২ একর ২৫ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছি। গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছিল। এবার ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম কম থাকলে আবারও লোকসানে পড়তে হবে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার দগরপুর গ্রামের আলুচাষি বিল্লাল হোসেন বলেন, আলুর দাম আশানুরূপ না। গতবারের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশা ছিল, কিন্তু এবার আরও ক্ষতির আশঙ্কা করছি।
নায়েরগাঁও গ্রামের কৃষক আলম প্রধান বলেন, বছরে একবার আলু চাষ করি। এতে আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। অনেক খরচ করে চাষ করেছি। এখন যদি দাম না পাই, তাহলে বড় বিপদে পড়তে হবে।
কৃষক বশির মোল্লা, কালু বেপারী, দুলাল বেপারী ও রিহাদ হোসেন বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, পরিশ্রমও করেছি অনেক। এখন ভালো দাম পেলেই আমাদের সব কষ্ট সার্থক হবে।
এদিকে হিমাগারে জায়গা সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। মতলব দক্ষিণ উপজেলার তিনটি হিমাগারের মধ্যে বর্তমানে দুটি চালু থাকায় সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মার্শাল কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা ১০ হাজার টন। নায়েরগাঁও হিমাগারের সক্ষমতাও প্রায় একই। ইতোমধ্যে হিমাগার প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। যদি সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো যায় এবং আলুর বিকল্প ব্যবহার (প্রক্রিয়াজাতকরণ) নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কৃষকের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, যাতে তারা উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভালো ফল পেতে পারেন।
মন্তব্য করুন