

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সুজাতপুর বাজার সংলগ্ন একটি সেচ ক্যানেল মেরামতের পর পানি ছাড়ার সাথে সাথেই ভেঙে পড়েছে।
জানুয়ারি মাস শেষ হলেও সেচ ব্যবস্থা অনিশ্চিত থাকায় বোরো আবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ক্যানেলটির মেরামত কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু প্রথম দিন বুধবার বিকেলে পানি প্রবাহ শুরু হতেই ক্যানেলের একটি অংশ ধসে পড়ে।
এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কাজের মান, তদারকি ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দখলমুক্ত করে ক্যানেলটি পুনরায় মেরামত করা হয়। ক্যানেলের পাশেই একটি পুকুর থাকলেও সেখানে পাইলিং না করে বেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে মাটি তোলা হয়েছে।
ফলে ক্যানেলের ঘেঁষে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে অংশটি ভেঙে যায়।
জানা গেছে, ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনা, কাজের মন্থরগতি এবং তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার পাশাপাশি যথাযথ তদারকি না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মতলব উত্তর উপজেলায় বোরো মৌসুম চলমান থাকলেও সময়মতো সেচ না পাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, পূর্বেও পানির অভাবে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
দ্রুত ক্যানেল সংস্কার করে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে চলতি মৌসুমে ঐ অঞ্চলে বোরো উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষক ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে দায় নির্ধারণ ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
সুজাতপুর এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন মুন্সি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বিগত ৪৫ বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার মিলে মতলব উত্তরে কত বড় দুর্নীতি করছে, সুজাতপুর বাজারের এই দুর্ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।
এদিকে ঠিকাদার ও মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প পানি ব্যবহারকারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ তো ভালোই করেছিলাম, পানির চাপে হয়তো ভেঙে গেছে।
বিষয়টি সেচ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তারা পরিদর্শনে আসবেন।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, বোর্ডের লোকজন এসে পরিদর্শন করবেন এবং দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাজের মান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।
তবে এ বিষয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম শাহেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
