শুক্রবার
০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেটে ফেলা হলো সেই ‘অলৌকিক’ গাছ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝড়ে হেলে পড়া গাছ
expand
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝড়ে হেলে পড়া গাছ

ঝড়ে শিকড়সহ মাটিতে উপড়ে পড়ে গিয়েছিল গাছটি। প্রায় এক মাস সেভাবেই পড়ে ছিল। পরে ডালপালা ও গাছের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলার পর হঠাৎ করেই সেটি আবার ‘দাঁড়িয়ে’ যায়। এরপর থেকেই গাছটিকে ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সেই ‘অলৌকিক’ গাছটিকে অবশেষে কেটে ফেলা হয়েছে। শুক্রবার (০৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তাই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় কেটে ফেলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাছটির কিছু অংশ আগেই কাটা হয়েছিল। সেটি হেলে ছিল কিনা, তা নিশ্চিত নই। গাছের মালিকের সঙ্গে কথা বলে কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মালিক।

গাছটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে দাবি করেন, আবার কেউ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গাছটিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের কুসংস্কার বা ‘মাজার সংস্কৃতি’ তৈরি না হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজারের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ মির্জা মারুফ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের ওপরের অংশ কেটে দিলে ওজন কমে যায়। শিকড়ের স্থিতিস্থাপকতা এবং মাটির চাপের কারণে গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এ ধরনের ঘটনাকে রহস্যময় না করে মানুষের কাছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা উচিত।’

অন্যদিকে, জিলানী বিগদাদি নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, ‘এতে আল্লাহর কোনো কুদরত বা রহস্য থাকতে পারে। তবে গাছকে কেন্দ্র করে মানত, তাবিজ বা পূজার মতো কর্মকাণ্ড ইসলামসম্মত নয়।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মুন্সীবাড়ির একটি পুকুরপাড়ে গাছটির কাটা অংশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার ওই অংশটি সামান্য হেলে ছিল। নিচের কয়েক ইঞ্চি ছাড়া বাকি অংশ কেটে ফেলা হয়েছিল। গাছটির গোড়ার কিছু অংশ মাটির ওপরে দৃশ্যমান ছিল।

গাছটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের বিশ্বাস তৈরি হয়। কেউ কেউ সেখানে আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালান, আবার অনেকে লাল কাপড় বেঁধে রাখেন। ঘটনাটি দেখতে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ ভিড় করছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন