শুক্রবার
০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারামুক্তির পর আইভীর বাড়ির সামনে বসানো হয়েছে সিসিটিভি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী
expand
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী

জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, একজন সাবেক মেয়র হিসেবে আইভীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বা তার সমর্থকদের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা ১২টি মামলায় প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর বুধবার (০৩ জুন) রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান আইভী।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে অবস্থিত তার পৈতৃক বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ পৌঁছান তিনি। এর আগে তিনি নগরীর মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে গিয়ে বাবা, মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেন।

তার মুক্তি ও বাড়ি ফেরা উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই রাতেই আইভীর বাসার সামনে ও আশপাশের সড়কে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

চুনকা কুটিরের পাশের এক চা দোকানি মো. সুজন বলেন, ‘এ এলাকায় আগে এসব ক্যামেরা ছিল না। রাতে এসে এগুলো লাগানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। তিনি একজন সাবেক মেয়র হওয়ায় তার নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রেখেছি। একই সঙ্গে তিনি বা তার পক্ষ থেকে কেউ যেন নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে জড়াতে বা উসকানি দিতে না পারে, সেটিও আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামিনে থাকাকালীন তিনি স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। তবে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচিতে অংশ নিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইভীর বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু তার বাসভবনকে কেন্দ্র করে নয়। পুরো নারায়ণগঞ্জকে ধাপে ধাপে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জেলায় প্রায় দুই হাজার ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

এদিকে, আইভীর মুক্তির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন, ঘনিষ্ঠজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা চুনকা কুটিরে ভিড় করতে শুরু করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা তার খোঁজখবর নিতে আসছেন।

উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে প্রথমবার নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর প্রথম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ ও ২০২২ সালেও পুনর্নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অন্যান্য সিটি মেয়রদের সঙ্গে তাকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন