

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান জট ও ভাঙনের সমস্যা সমাধানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) হঠাৎ তৎপর হয়ে উঠেছে।
আগামী বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরাইল বিশ্বরোড পরিদর্শন করবেন। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় সওজ কার্যালয়ও দ্রুত কাজের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় ভাঙা সড়ক মেরামতের জন্য ইতিমধ্যেই তিন স্তরে ইট-বালু বিছানোর কাজ চলছে। তবে সড়কের মাঝখানে ইট ও বালুর স্তূপ ফেলার কারণে উল্টোভাবে জানজট আরও বেড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, উপদেষ্টার পরিদর্শনের পর হয়তো এসব ইট আবার সরিয়ে ফেলা হতে পারে, যা অর্থের অপচয় হবে।
তবে সওজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে এই কাজ করা হচ্ছে।
সওজের কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর গত শনিবার সরকারী নির্দেশনা আসে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর শনিবার বিকাল থেকেই দ্রুত মেরামত কাজ শুরু হয়েছে।
গোলচত্বর থেকে সিলেটমুখী সরাইল কুট্টাপাড়া মাঠ পর্যন্ত প্রায় ১৯০ মিটার এলাকায় তিন স্তরের ইট-বালুর সমতলকরণ চলছে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, মোট চার লাখ ইট ব্যবহার করা হবে, যা ঢাকা, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় ইটভাটার মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির মঙ্গলবার ট্রেনে ভৈরবে এসে সরাইল বিশ্বরোডে সরাসরি ভাঙা সড়ক, যানজট এলাকা ও মেরামতকাজ পরিদর্শন করবেন।
আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০.৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় আট বছর আগে। মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা, যা বাস্তবায়ন করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। তবে কাজের গতি শুরু থেকেই ধীরগতি ছিল। একসময় প্রকল্প স্থগিত হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছুটি নিয়ে দেশে ফিরে যায় এবং কয়েক মাস পরে ফিরে আসলেও অনেক নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়।
সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জনদূর্ভোগ লাঘবে আমরা তিন স্তরের ইট-বালু বিছানোর কাজ করছি।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ যোগ করেন, নতুন বরাদ্দ এসেছে এবং প্রকল্পের কিছু সমস্যা সমাধান হয়েছে। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
সওজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি কোনো অস্থায়ী সংস্কার নয়। উর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরই আমরা কাজ শুরু করেছি।
মন্তব্য করুন
