সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শজিমেকে মারামারির ঘটনায় ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
হাসপাতাল কতৃপক্ষের প্রেস ব্রিফিং। ছবি: সংগৃহীত
expand

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টানা সমঝোতার পর প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে চলা কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

কর্মবিরতি সাময়িক প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ।

এর আগে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনেরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন এবং চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনার বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে পাঠিয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তবে সার্বক্ষণিক চালু ছিল জরুরি বিভাগ।

পরিস্থিতি নিরসনে বৃহস্পতিবার দুপুরে শজিমেক মিলনায়তনে জরুরি বৈঠকে বসেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা বিএনপির শীর্ষনেতা এবং বিএমএ ও চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক চলাকালেই বগুড়া শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান।

বৈঠক শেষে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মোর্শেদ বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দেওয়া দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। হাসপাতালে আর্মড আনসার ও সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank