

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের তিনতলা ছাত্রাবাসটি ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবংকাজ শেষ হয় ১৯৯৬ সালে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক অনীহায় ছাত্রাবাসটি ৩৩ বছর পেরিয়েও চালু হয়নি। অথচ উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে কলেজে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুবিধার্থেই নির্মিত হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটি। তত্ত্বাবধায়কসহ কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগ না হওয়ায় ভবনটি আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ছাত্রাবাস ভবনটি এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনে-রাতে ভবনটিতে মাদকসেবন, জুয়া ও নারী-পুরুষের অনৈতিক কার্যকলাপ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
সরজমিনে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের দেয়াল ও সিলিংজুড়ে স্যাঁতস্যাঁতে দাগ, খসে পড়েছে পলেস্তারা। দরজা-জানালা ও গ্রিল চুরি হয়ে গেছে। ভেতরে ছড়িয়ে আছে মদের বোতল, সিগারেটের প্যাকেট, দিয়াশলাই, ইয়াবার খালি প্যাকেট ও নারীদের পোশাক। ভবনের ছাদ ও কক্ষে কয়েকজন যুবককে প্রকাশ্যে মাদকসেবন করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামলেই ছাত্রাবাস ভবনটি মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা ও প্রশাসনের নীরবতায় এটি এখন যেন ‘ভূতুড়ে বাড়ি’তে রূপ নিয়েছে।
বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজ উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য যাতায়াত করা প্রতিদিন সম্ভব নয়। কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, “ছাত্রাবাসটি চালু হলে আমাদের অনেকেরই কষ্ট লাঘব হবে। কিন্তু অজানা কারণে ভবনটি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে আছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রাবাসের আশপাশের জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা, উদাসীনতা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে সরকারি এই সম্পদ ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, “কলেজের মোট ৬ একর ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে ছাত্রাবাসের জায়গায় থাকা ৫৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২৭ শতাংশ কলেজের নামে রেকর্ড রয়েছে। তবে বাকি ২৬ শতাংশ জমি হাল জরিপে স্থানীয় কয়েকজনের নামে রেকর্ড হয়। এ বিষয়ে ২০১৯ সালে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং—১৭৫৯/১৯) চলমান রয়েছে। জমি সংক্রান্ত এই মামলার কারণেই ছাত্রাবাসটি এখন চালু করা যাচ্ছে না।”
১৯৭০ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই এটি সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয়।
মন্তব্য করুন