

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পুলিশ হেফাজতে রিয়াজ ফকির নামে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে থানা চত্বর। এ সময় থানা ঘেরাওকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও রিয়াজের স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের ফকির বাড়ির সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিম এবং কনস্টেবল ফরহাদ। অন্যদিকে আহত হয়েছেন রিয়াজের দাদি মমতাজ বেগম, বড় বোন শারমিন ও চাচা কাঞ্চন ফকির।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জে মমতাজ বেগমের হাত ভেঙে গেছে।
পুলিশ জানায়, বিকেলে ২০ থেকে ২৫ জন নারী-পুরুষ থানার গেটে এসে ভাঙচুর ও হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে রিয়াজের পরিবারের দাবি ভিন্ন।
রিয়াজের বড় বোন শারমিন বলেন, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ভাইয়ের খোঁজ নিতে এবং ঘটনার বিচার দাবি করতে গেলে পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে কাঞ্চন ফকির গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারান।
রিয়াজের বাবা সিদ্দিক ফকির অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোন মেরামতের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতে থানায় গিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বললে রিয়াজ জানান, কোনো মাদক না পাওয়া সত্ত্বেও তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতভর রিয়াজকে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করা হয়। রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে জানায়, গারদের শিকের সঙ্গে মাথা আঘাত করে রিয়াজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সকালে হাসপাতালে গিয়ে তারা তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
অন্যদিকে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি জামিনে ছিলেন। স্বর্ণ চুরির একটি মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ফুল্লশ্রী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
তিনি দাবি করেন, থানায় আনার পর রাত ৯টার দিকে রিয়াজ নিজেই হাজতের গারদের শিকের সঙ্গে মাথা আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। পরে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ ও থানা ঘেরাওকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।