

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় কোনভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না অবৈধভাবে তেল মজুত কারীদের। শুধু একদিনের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৬০০ লিটার জ্বালানি তেল। অভিযানে অবৈধ মজুত রাখার দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী এলাকায় এবং সন্ধা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাটের পূর্ব পাশে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না।
অভিযানে তেলের অবৈধ মজুত রাখার দায়ে ‘মোল্লা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সিদ্দিকুর রহমান মোল্লাকে ১০ হাজার, মেসার্স হাওলাদার স্টোরের স্বত্বাধিকারী আ. কুদ্দুস হাওলাদারকে ৫ হাজার এবং সিকদার স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমান শিকদারকে ৩ হাজার করে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মোল্লা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত করে রেখেছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই দিনে সন্ধা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর গোপন সংবাদে মেসার্স হাওলাদার স্টোর ও সিকদার স্টোর নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির দায়ে ডিলার আ. কুদ্দুস হাওলাদারকে ৫ হাজার টাকা এবং মো. সাইদুর রহমান শিকদারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠান তিনটি থেকে ৫ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৬০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত তেল নিলামের মাধ্যমে স্থানীয় ট্রলার, ট্রাক্টর, স্পিডবোট ও আলফা চালকদের কাছে বিক্রি করা হয়। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগাওে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, অভিযুক্তরা বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে এনে উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট সংলগ্ন দোকানে মজুদ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। এ অভিযানে জেলা এনএসআই বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন এবং বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুতদারদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন