বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জে আসামীদের গ্রেপ্তার ও ওসি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

বাবুগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ
expand
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছর বয়সী শিশু রাইসা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সংশ্লিষ্ট ওসির প্রত্যাহার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ঘন্টাব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বক্তারা বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এহতেশামুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন এবং মামলা নিতে গড়িমসি করেছেন। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলেন তারা। বক্তারা দ্রুত তার প্রত্যাহার দাবি করেন।

এসময় বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মো.মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাইসা হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় মহাসড়ক অচল করে দেওয়া হবে।

এর আগে দুপুর আড়াইটায় রাইসা হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশালের পুলিশ সুপার এ.জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে ঘটনার ২ দিন পর (১৭ মার্চ) বাবুগঞ্জ থানায় রাইসার বাবা দিনমজুর নজরুল হাওলাদার বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন সিফাত সিকদার (১৫) এবং তার বাবা জালাল সিকদার (৪৫)।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সিফাত সিকদার শিশুটির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা রাইসাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর আগে অ্যাম্বুলেন্সে শিশুটির দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন