

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বরিশালে ততই বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। দিন কিংবা রাত—যেকোনো সময় প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার নগরবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথ ব্যবহার করেও নগরীতে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।
চলতি মাসের ৫ তারিখে নগরের বিসিক এলাকার আকবর নামের এক ব্যক্তির কাছে পুরোনো একটি স্টিলের আলমারি মেরামতের জন্য দেন জাকির হোসেন। মেরামতের সময় আলমারির ভেতর থেকে সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। পরে আকবর গুলিগুলো কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে জমা দেন। পুলিশ যাচাই করে গুলিগুলোর কোনো বৈধতা না পাওয়ায় জাকির হোসেনকে আটক করে।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল মহানগরীর রিফিউজি কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। এ সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে এক পক্ষ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকায় সক্রিয় দুটি পক্ষ মাদক ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে তারা প্রায়ই অস্ত্র মহড়া দিয়ে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও কার্যকর ফল দেখা যায় না বলে অভিযোগ তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালে সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথে অন্তত দশটি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে শহরের কীর্তনখোলা নদীর তীরসংলগ্ন রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও পলাশপুর এলাকায় এসব অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, গভীর রাতে লবণবোঝাই ও মাছের ট্রলারে করে পিস্তল, দা ও মাদক আনা হয়। পরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব অস্ত্র নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে।
শহরের বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা হারিছ উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নদীতীরজুড়ে মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি সন্দেহজনক ট্রলারের আনাগোনা চোখে পড়ে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগর শাখার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। সাধারণত নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ে। কিন্তু এবারের নির্বাচনের আগে সে ধরনের দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।”
তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. আব্দুল হান্নান দাবি করেন, মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্ঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “বরিশালের কোনো থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেনি। মহানগরীর চারটি থানার আওতায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।”
মন্তব্য করুন
