শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমতলীতে স্কুলছাত্রের যুদ্ধবিমান আবিষ্কার

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০২ পিএম
আমতলীতে নবম শ্রেণির ছাত্রের যুদ্ধবিমান আবিষ্কার
expand
আমতলীতে নবম শ্রেণির ছাত্রের যুদ্ধবিমান আবিষ্কার

বরগুনার আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সওকত ইসলাম সিফাত তৈরি করেছেন দুইটি যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাডার, মিসাইল ও যুদ্ধজাহাজ। তার এমন অসাধারণ সৃষ্টি কর্মে অভিভূত এলাকাবাসী।

বৈজ্ঞানিক হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা এই কিশোর বর্তমানে আর্থিক সংকটে ভুগছেন। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে তার প্রতিভা আরও বিকশিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা।

জানা যায়, সওকত ইসলাম সিফাত আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর রাওগা গ্রামের কৃষক মো. বশির প্যাদা ও চম্পা আক্তারের পুত্র। ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশা ছিল তার।

২০২২ সালে একটি হাফেজি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে হেফজ সম্পন্ন করার পর ২০২৩ সালে চাওড়া পাতাকাটা মেহেরআলী দাখিল মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি যুদ্ধবিমান তৈরির উদ্যোগ নেন। তিন মাসের প্রচেষ্টায় রাশিয়ার তৈরি মিগ-২৯ মডেলের যুদ্ধবিমান তৈরি করে উড়াতে সক্ষম হন। এরপর তিনি তৈরি করেন আমেরিকার এফ-২২ মডেলের যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাডার, মিসাইল এবং যুদ্ধজাহাজ। প্রতিটি প্রকল্পেই তিনি সফলতা অর্জন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খুদে বিজ্ঞানী সিফাত নিজ হাতে তৈরি এফ-২২ মডেলের যুদ্ধবিমান রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আকাশে উড়িয়ে দেখান। এ বিমান তৈরিতে তিনি রিমোট, রিসিভার, বিএলডিসি মোটর, সার্ভো মোটর ও ব্যাটারিসহ নানা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম প্যাদা ও জালাল মৃধা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সিফাত নানা কিছু আবিষ্কার করে আসছে। তার কাজ দেখে আমরা মুগ্ধ। এলাকাবাসী এখন তাকে ‘খুদে বিজ্ঞানী’ বলে ডাকে।

সিফাতের মা চম্পা আক্তার জানান, ছেলে লেখাপড়ার পাশাপাশি সারাক্ষণ গবেষণায় ব্যস্ত থাকে। ইতোমধ্যে দুইটি যুদ্ধবিমান, রাডার, মিসাইল ও যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে নতুন কিছু তৈরি করতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, টিফিনের টাকা জমিয়ে, আর প্রতিবেশীদের সহায়তায় সে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে এসব কাজে।

খুদে বিজ্ঞানী সওকত ইসলাম সিফাত বলেন, আমি বৈজ্ঞানিক হয়ে দেশের জন্য কিছু করতে চাই। অনেক নতুন পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু অর্থের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছি না।

তার বাবা মো. বশির প্যাদা বলেন, ছেলের প্রতিভা দেখে যা পারি সহায়তা করি। কিন্তু এখন আর পেরে উঠছি না। যদি সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা মেলে, আমার ছেলে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, সওকত ইসলাম সিফাত অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। ইতোমধ্যে সে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও রাডার তৈরি করেছে। বিদ্যালয় থেকে তাকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহায়তা পেলে সে আরও দূর এগিয়ে যাবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। তার উদ্ভাবনী কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন