

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে ফেরার পথে ঢাকার রামপুরায় গুলিতে নিহত হন তালতলী উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক আমির তালুকদার। দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে প্রায় দুই বছর। কিন্তু তার নিহতের ঘটনায় স্ত্রী মোসাম্মৎ আন্নি আক্তারের জীবনে নেমে আসা অমানিশা আজও কাটেনি। কর্মক্ষম স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিরের স্ত্রী আন্নি আক্তার বলেন, আমার আর কিছুই রইল না। স্বামী গুলিতে মারা না গিয়ে আমি মারা গেলে অনেক ভালো হতো। গত দুই বছরে জীবনটা আরও কঠিন হয়ে গেছে। এখন আমার তিন সন্তানকে কে ভরণপোষণ দেবে? কীভাবে তাদের পড়াশোনা ও লালনপালন করব, ভেবে পাচ্ছি না। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তার দাবি জানিয়েছিলেন এই বিধবা। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর এখন বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের কাছে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, তালতলী উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের মৃত আলতাফ তালুকদারের ছেলে আমির হোসেন তালুকদার ছোটবেলায় কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান। ২০১৬ সালে মুন্সীগঞ্জের মেয়ে আন্নি আক্তারকে বিয়ে করেন। ঢাকার রামপুরা টিভি সেন্টারের পাশে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তাদের ঘরে রয়েছে আরমান (৮) আরিয়ান (৬) ও আমেনা (৩) নামের তিনটি সন্তান।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ আদায় করতে রামপুরা মোল্লা টাওয়ার সংলগ্ন মসজিদে যান আমির। নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফেরার পথে ছাত্র-জনতা ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলছিল। এ সময় তিনটি গুলি এসে তার শরীরে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গ্রামের বাড়ি তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের মৌপাড়া গ্রামে বাবার কবরের পাশে দাফন করেন।
নিহতের চাচা জাকির হোসেন তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালের ওই আন্দোলনে আমার ভাতিজা আমির হোসেন প্রাণ হারায়। সে স্ত্রী ও তিনটি শিশু সন্তান রেখে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের ভরণপোষণের জন্য সেভাবে কেউ দাঁড়ায়নি। পরিবারটি অনেক কষ্টে দিন পার করছে।
সে সময় তালতলী উপজেলা প্রশাসন থেকে পরিবারটিকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অসহায় পরিবারের টিকে থাকার জন্য তা যথেষ্ট নয় বলে জানান স্বজনরা। তাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ পরিবার হিসেবে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আমির হোসেনের পরিবারের খোঁজখবর আমরা রাখছি। পরিবারটি যে বর্তমানে কষ্টে দিন পার করছে, তা আমাদের নজরে এসেছে। তারা যেন কোনোভাবেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন