

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরকীয়ার সন্দেহেরে জেরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে আয়েশা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ছৈয়দ আহমদকে আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামিরতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আয়েশা বেগম জামিরতলী এলাকার ছৈয়দ আহমদের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আয়েশা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় জাফর আলমের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ ছিল তার স্বামী ছৈয়দ আহমদের। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আয়েশা, জাফর আলম ও ছৈয়দ আহমদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, ওই ঘটনার পর ছৈয়দ আহমদ অজ্ঞাত কয়েকজনের সহায়তায় আয়েশাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ছৈয়দ আহমদ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযান চালিয়ে তার স্বামী ছৈয়দ আহমদকে গ্রেফতার করে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, এই দম্পত্তি ২০১৬ সালে বিয়ে করছিল। তাদের তিনটা বাচ্চা আছে। দুইটা ছেলে আরেকটা মেয়ে। প্রথম অবস্থায় স্বামী কৃষি কাজ করত। পরে ২০২০ সালের দিকে সে বিদেশ গেছে। বিদেশ থেকে আসছে গত জুন মাসের দিকে।
আসার পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সকাল-বিকাল গণ্ডগোল, মারামারি। প্রতিবেশীরা এগুলো প্রায় সময় দেখত। মূলত তার একটা সন্দেহ ছিল যে তার স্ত্রী এক মানুষের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত আছে।
সর্বশেষ কালকে নাকি বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গিয়েছিল, পরে চলে আসছে। এসে ওই পরকীয়া একজনকে নাকি ওখানে দেখছে। তো এটাকে কেন্দ্র করে মারধর করেছে, একপর্যায়ে সে মারা গেছে।
তিনি আরো বলেন, যে পোস্টমর্টেমের জন্য গার্ডিয়ানগুলো একসাথে পুলিশের সাথে গেছে। এরা লাশ নিয়ে গ্রামের দিকে গেছে, দাফন-কাফন করে হয়ত সন্ধ্যায় আসবে আরকি। তারা এজাহার দিলে মামলা হয়ে যাবে।

