

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিগত দুইদিন বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি উন্নতির দিকে থাকলেও রাতে (১১ জুলাই) টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারনে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি আবারো মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জেলা শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতু মারাত্মক পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ে গেছে। ফলে শনিবার সকাল থেকে এই দুই সড়কের সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জেলায় পাহাড়ধসে ৫ জন এবং পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুসহ মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সারারাতের অব্যাহত বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বান্দরবান-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে জেলাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের কারণে মাটি ও গাছ উপড়ে পড়ে রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ অভ্যন্তরীণ উপজেলাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ ও খাদ্যসংকটে ভুগছেন। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে কাজ করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক ও এনজিও সংস্থা।
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় ত্রান বিতরন শুরু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।