রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী দিঘিতে কুমির ফেরত দেওয়ার দাবি খাদেমদের

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand
ছবি: এনপিবি নিউজ

বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরটি পুনরায় দিঘিতে অবমুক্ত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন মাজারের খাদেমরা। রোববার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এর আগেও চিকিৎসার জন্য দিঘি থেকে দুটি কুমির নিয়ে যাওয়া হলেও সেগুলো আর ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই যেকোনো মূল্যে কুমিরটি দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ সময় বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন প্রধান খাদেম। সংবাদ সম্মেলনে মাজারের খাদেম, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

খাদেমদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৬শ বছর আগে খান জাহান আলী ঠাকুর দিঘিটি খননের সময় পানির নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের জন্য সেখানে কুমির অবমুক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই মাজারের দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতি ছিল। তবে দীর্ঘদিন প্রজনন না হওয়া, বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং মানবসৃষ্ট কারণে একে একে কুমিরগুলো মারা যেতে থাকে। সর্বশেষ স্থানীয় বংশধারার কুমিরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

কুমিরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। তবে সেগুলোরও কয়েকটি পরে মারা যায়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের মধ্যে একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যাওয়ার পর দিঘিতে মাত্র একটি কুমির অবশিষ্ট ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ওই কুমিরটি মানুষ ও প্রাণীর ওপর আক্রমণ চালায়। চলতি বছরের এপ্রিলে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারী ঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তার (৭) নামে এক শিশুকে কুমিরটি পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ২ জুন ভোরে দিঘি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ৩ জুন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের সাড়ে ৬শ বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন