মঙ্গলবার
১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল
expand
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. মিন্টু শেখ (৪৬) নামে এক দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহতের ডান হাত বিচ্ছিন্ন ও ডান পায়ের রগ কেটে গেছে।

সোমবার (১৮ মে) বিকাল ৪টায় উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের বোলপুর গ্রামের এ হামলার ঘটনা ঘটে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মিন্টু শেখ বোলপুর গ্রামের আব্দুল অহেদ শেখের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মোহসিন শেখের সাথে মিন্টুর পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।

নিহতের ভাই মিজান শেখ জানান, সোমবার বিকেল কাজ শেষে একা বাড়ি ফিরছিলেন মিন্টু শেখ। পূর্ব বিরোধের জেরে মোহসিন শেখের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা মিন্টুর ডান হাত কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিজান শেখ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ভাইকে কুপিয়ে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যাচ্ছে। তখনও ভাই অল্প কথা বলতে পারছিল।

কারা হামলা করেছে, তাদের কয়েকজনের নামও বলেছে। মোহসিন শেখের নেতৃত্বে হামলায় অংশ নেয় দুলাল শেখ, লিওন, কামরুল, মুরাদ, সাইয়াদ, তবি ও আরও কয়েকজন।

নিহতের চাচাতো ভাই রফিজ শেখ বলেন, আমাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আগেও তারা আমাদের কয়েকবার হুমকি দিয়েছে। হামলার পর মিন্টুর বিচ্ছিন্ন হাত সঙ্গে করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। চারপাশে খুঁজেও হাতটি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় যুবক রিয়াদ শেখ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি একটি হাত নেই, পা ঝুলে আছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তখনই বুঝতে পারি মিন্টু হয়ত মারা যাবে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সোহেলুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মিন্টু শেখের মৃত্যু হয়। তার ডান হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং পায়েও গুরুতর জখম ছিল।

মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো, মাহমুদুর রহমান বলেন, ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন