

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার তিন দিন পার হলেও স্বজনদের কান্না থামেনি। নিহত আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে এখনও শোকের মাতম চলছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়–স্বজনরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন।
শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজ্জাকের বাড়ির সামনে মসজিদ থেকে আনা কয়েকটি খাটিয়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাড়ির আঙিনায় নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। কিছুক্ষণ পরপর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা যাচ্ছেন কবরস্থানে। সেখানে গিয়ে প্রিয়জনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন, কেউ কেউ কবরের মাটি ছুঁয়ে নিঃশব্দে কাঁদছেন।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মিতুর বাবা আব্দুস সালাম খুলনার কয়রা থেকে মোংলা কবরস্থানে আসেন। সদ্য গড়া মেয়ের সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কবরের মাটির নিচে।
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আব্দুস সালাম বলেন, আমার তো সব শেষ হয়ে গেছে। আমার দুটো মেয়েই হারিয়ে গেলো। তাদের বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। এখন মা-ও নেই। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
তাকে কাছে পেয়ে নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যরা আরও বেশি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় জিহাদ হাওলাদার বলেন,খুলনা মংলা মহাসড়ক যেন একটি মৃত্যুর কূপ প্রায় এখানে সড়কে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে এখনো যদি প্রশাসন বা সরকার যদি কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেই তাহলে এই মৃত্যুর অবস্থা আরো দীর্ঘ হতে পারে সামনে ।
নিহতের বাড়ির পাশে বসবাস করা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা তিন দিন ধরে শুধু কান্না শুনছি। এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। রাজ্জাক ভাই, মিতু আর বাকি সবাইকে হারিয়ে পুরো মহল্লা শূন্য হয়ে গেছে। কখনও ভাবিনি যে কোনোদিন আমাদের ঘরবাসার পাশে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটবে। আমরা চাই যেন প্রশাসন খুঁজে বের করে এই ধরনের দুর্ঘটনা আর যেন না ঘটে
আমাদের সকলের এখন দাবি সরকার এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত যেন সড়কের নিয়ন্ত্রণ পেতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, নৌবাহিনীর স্টাফবাসটির অতিরিক্ত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে খুলনা–মোংলা মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে বর, বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ ৯ জনকে মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। নববধূ, তার বোন ও দাদিকে দাফন করা হয় কয়রার নকশা এলাকায় এবং নানিকে দাফন করা হয় চালনা এলাকায়। অপরদিকে মাইক্রোবাস চালকের দাফন হয়েছে তার নিজ গ্রাম রামপালে।
একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই ভেঙে দিয়েছে একাধিক পরিবার। তিন দিন পরও কবরের পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনরা খুঁজে ফিরছেন তাদের প্রিয় মানুষের শেষ স্মৃতি।
মন্তব্য করুন