শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরি পরীক্ষায় জালিয়াতি, তিনজনকে জেলহাজতে প্রেরণ

‎দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৭ পিএম
expand
চাকরি পরীক্ষায় জালিয়াতি, তিনজনকে জেলহাজতে প্রেরণ

‎দিনাজপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক পদে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ডিভাইসসহ আটক পরীক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।

‎পুলিশ সুপার বলেন, গতকাল উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষায় শহরের কেরী মেমোরিয়াল হাইস্কুল কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীকে দুটি ডিভাইসসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথমে হর সুন্দর রায় (সবুজ) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি আটক ওই পরীক্ষার্থীকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করেছিলেন। পরে সুন্দর রায়ের সহকর্মী মো. মামুনকে স্বপ্নচূড়া ছাত্রাবাস থেকে আটক করা হয়। সেখান কয়েকটি ডিভাইস, মুঠোফোন, ২৪টি প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রটি ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

‎পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন আরো বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে। আজ বিকেলে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চক্রটির মাধ্যমে যাদের চাকরি হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

‎মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন-চাকরিপ্রার্থী বিরল উপজেলার সিঙ্গুল পূর্ব রাজারামপুর এলাকার আশুতোষ রায়ের ছেলে কৃষ্ণকান্ত রায় (২৯), চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষ্ণ চন্দ্রপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে মো. মামুন (৩৫), একই উপজেলার পশ্চিম সাইতাড়া গ্রামের করুনা কান্ত রায়ের ছেলে হর সুন্দর রায় (৩৯), খানসামা উপজেলার কুমড়িয়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে নুসাউর রহমান (নাঈম) ও পারভেজ (২৭) নামের আরেক তরুণ।

জানা গেছে, এই চক্রের সক্রিয় সদস্য মামুন। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজে পড়ালেখা করার সময় শহরের ফকিরপাড়া এলাকার একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। ২০১৬ সালে ওই এলাকায় ‘স্বপ্নচূড়া’ নামের ছাত্রাবাসটি ভাড়া নিয়ে নিজেই পরিচালনা শুরু করেন। ২০১৮ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ঢাকায় ডাক বিভাগের এক কর্মকর্তার (এখনো কর্মরত আছেন) সঙ্গে যোগাযোগ হয় মামুনের। সেই কর্মকর্তার সহযোগিতায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে চাকরি নেন।

পরে মো. মামুন নিজেই জড়িয়ে পড়েন ওই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে। গত কয়েক বছরে চক্রটি স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিবন্ধন পরীক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন