

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বি.এম.) কলেজে ছাত্র সংসদ—বাকসু (ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদ)—এর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তালা ঝুলিয়ে অনশন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং ‘কঠোরতর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি’ দেয়। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তারা পুনরায় ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাকসুর কার্যক্রম স্থগিত থাকায় কলেজে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরাতে আন্দোলন করছি। প্রশাসন যদি এবারও চুপ থাকে, আমরা কলেজজুড়ে সর্বাত্মক শাটডাউন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি দেব।”
আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী বলেন — বাকসু শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরের প্রতীক। প্রশাসনের নীরবতা আমাদের আন্দোলনকে আরও কঠোর করবে।”
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু)। ব্রজমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৯ সালে, আর এর ছাত্র সংসদ প্রথম গঠিত হয় ১৯২২ সালে। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে এই কলেজ থেকেই বরিশাল অঞ্চলে গণআন্দোলন, স্বদেশি আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা হয়।
বাকসু পরবর্তীকালে পাকিস্তান আমলে ও স্বাধীনতার পরও দক্ষিণাঞ্চলের ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনে ব্রজমোহন কলেজ ও বাকসুর নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তবে ২০০২ সালের পর থেকে বাকসু নির্বাচন বন্ধ রয়েছে, ফলে দুই যুগ ধরে সংগঠনটি অচল অবস্থায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন