

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিল এমটিবি ফাউন্ডেশন।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর আমিরাবাদ মাসকান্দায় স্পন্দন ট্রেনিং ফেসিলিটেশন সেন্টারে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 'ইউসেপ স্কিলস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ এর উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর চেয়ারম্যান রাশেদ আহমেদ চৌধুরী।
এটি এমটিবি ফাউন্ডেশনের শিক্ষা খাতের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।
ইউসেপ বাংলাদেশ ও এমটিবির যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এমটিবি-ইউসেপ স্কিলস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (মুষ্টি)” নামক এ প্রকল্প তিন বছর মেয়াদি। আর এই প্রকল্প জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে, যার মাধ্যমে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১,২০০ জন সুবিধাবঞ্চিত ১৭-৩৫ বছর বয়সী যুবকদের আধুনিক, চাহিদাভিত্তিক কারিগরি দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অংশগ্রহণকারীরা ছয় মাসব্যাপী ৩৬০ ঘণ্টার একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে, যা পাঁচটি চাহিদাসম্পন্ন ট্রেডে পরিচালিত হবে ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, বিউটিফিকেশন, বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন এবং গ্রাফিক ডিজাইন।প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতেও সহায়তা করবে এমটিবি ও ইউসেপ বাংলাদেশ।
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউসেপ বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারপারসন এ. মতিন চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল করিম, পরিচালক (প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইনোভেশনস) ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মান্নান, এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী আখতার আসিফ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক রেইস উদ্দিন আহমাদ, এবং এমটিবি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামিয়া চৌধুরী।
এছাড়া এমটিবি ও ইউসেপ বাংলাদেশের বোর্ড সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এমটিবি ফাউন্ডেশন ও ইউসেপ বাংলাদেশের এই যৌথ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এসময় এমটিবি চেয়ারম্যান রাশেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে সমাজের প্রতিটি অংশকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, এই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে তরুণ–তরুণীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। এর ফলে শুধু তাদের জীবনমানই উন্নত হবে না, সমাজও উপকৃত হবে।
এমটিবি ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি ব্যাংক শুধু আর্থিক সেবা নয়, সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমও হতে পারে -এমটিবি সেটিই প্রমাণ করছে। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি তরুণ নিজের যোগ্যতায় কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক।
এমটিবি ফাউন্ডেশন তার করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কমিউনিটি উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবেই ‘এমটিবি–ইউসেপ স্কিলস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমটিবি কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং দেশের সামাজিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশীদার হিসেবেও তার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে অতিথিরা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ট্রেনিং ল্যাব ঘুরে দেখেন।
মুষ্টি প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জাতীয় টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর স্বীকৃত সনদ অর্জনের সুযোগ থাকবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা কর্মজীবনে তাদের মসৃণ প্রবেশের জন্য একটি নিবেদিত জব প্লেসমেন্ট প্রোগ্রাম থেকেও উপকৃত হবেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ অঞ্চলের যুবসমাজ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে টেকসই জীবিকা গঠনে সহায়তা পাবে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক ও স্থায়ী সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়।
মন্তব্য করুন