

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ায় সিভিল সার্জন অফিসের অধিনে স্বাস্থ্য কর্মীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার আগের দিন (বৃহস্পতিবার ২৩ অক্টোরব) রাতে এক চিকিৎসকের বাসায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ২০-২৫ জন পরীক্ষার্থীদের দিয়ে আগেই ‘প্রশিক্ষণমূলক পরীক্ষা’ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক নিয়োগ প্রার্থী।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ওই চিকিৎসকের বাসার সামনে স্থানীয় সাংবাদিকরা গিয়ে এমনই সত্যতা পান এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করেন।
সাংবাদিকদের ধারণকৃত ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ওই ভিডিওতে দেখা গেছে , কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.হোসেন ইমামের বাসা থেকে সকালে ২০-২৫ জন পুরুষ ও নারী প্রার্থীরা একে একে গেট দিয়ে প্লাস্টিকের ফাইল হাতে বের হয়ে সিভিল সার্জন অফিসের অধিনে নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাদের প্রশ্ন করলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না। কেউ দিকবেদিক ছুটতে যাচ্ছেন।কেউ দাবি করেন, তারা বন্ধুর বাসায় এসেছিলেন।এমনকি কেউ কেউ দৌড় দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস সম্প্রতি সাতটি পদে মোট ১১৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয় ৪ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত। এতে, স্বাস্থ্য সহকারী ৯৭ জন, পরিসংখ্যানবিদ ৩ জন, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান ১ জন, স্টোর কিপার ৪ জন, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৫ জন, ড্রাইভার ৪ জন।
নিয়ম মাফিক আজ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
নিয়োগ পরীক্ষা বর্জনকরে আব্দুস সালাম নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন,"সীমাহীন নিয়োগ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির কারণে আমি এই পরীক্ষা থেকে বিরত থাকলাম। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ও তার বড় ভাই প্রায় ২০-২৫ জন পরীক্ষার্থীকে রাতভর তাদের বাসায় রাখেন। সকালে দেখি ওই বাসা থেকেই তারা পরীক্ষার হলে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই তাদের প্রশ্নপত্র দেখানো হয়েছে। আমরা পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিতে এসেছি এমন অনিয়ম হলে পরীক্ষার কোনো মানে হয় না।"
আরেক পরীক্ষার্থীর স্বজন মো. মহিদুল ইসলাম বলেন,"বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কিছুই গোপন থাকে না। ভোররাতে ভিডিওতে দেখলাম শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে আরএমওর বাসায় ঢুকছে ও বেরোচ্ছে। শুনেছি এই চাকরির জন্য ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। ভেবেছিলাম নতুন সরকারের আমলে দুর্নীতি কমবে কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেড়েছে। আমাদের সন্তানরা দিনরাত পড়ে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে টাকাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। এটা দুঃখজনক।"
পরীক্ষার্থী ও তাদের স্বজনরা দাবি করেছেন নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে আবার নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হোক।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন,"সকালের ঘটনায় আমি কিছুই জানি না। আমার পৈত্রিক বাড়িতে শুধু আমি না আমি ও আমার ভাই বাদেও ম্যাচ রয়েছে । এবং পরীক্ষার্থীরা ওই মেসেই এসেছিল। তারা বলেছে সিভিল সার্জন অফিসের পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছে। গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে তারা কেন পালিয়েছে, সেটাও আমার অজানা।"
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা.শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ও নিয়োগ পরীক্ষার কমিটির সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান বলেন,"নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বিতরণ ও উত্তরপত্র সংগ্রহে কোনো দুর্বলতা ছিল না। যদি কেউ বাইরে থেকে অনৈতিকভাবে সুবিধা নিতে চায়, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আমরা চাই মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন হোক।"
এদিকে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের অধিনে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আগামী (২৬ অক্টোবর) রোববার সকালে সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র জনতা।
মন্তব্য করুন