

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বন্ধুত্বের টানে সাত সমুদ্র পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্যবসায়ী তেরি পারসন। তাঁর গন্তব্য, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের চর বালশা গ্রামের এক রাজমিস্ত্রীর বাড়ি!
গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ভোর রাতে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে রিসিভ করেন তাঁর বন্ধু সেতু মোল্লা। পরে বন্ধুকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফেরেন সেতু এবং নিজ হাতে চালানো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় গ্রাম ঘুরিয়ে দেখান বিদেশি অতিথিকে।
সেতু মোল্লা জানান, তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক ও রাজমিস্ত্রী। পাশাপাশি নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করেন। প্রায় ২৫ দিন আগে তেরি পারসন তাঁর এক ভিডিওতে লাইক দেন এবং মেসেঞ্জারে কথা বলেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের বন্ধুত্ব। মাত্র ২৫ দিনের সেই বন্ধুত্বই নিয়ে আসে তেরি পারসনকে বাংলাদেশে!
তেরি পারসন ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে এসেছেন বন্ধুকে দেখতে। সঙ্গে এনেছেন দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা ও কিছু উপহার।
সেতুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিশে ইতোমধ্যে বেশ আনন্দময় সময় কাটাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও গল্পে সময় কাটাতে ভীষণ পছন্দ করছেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশে এসে স্থানীয় খাবারের মধ্যে মুরগির মাংস, চা ও কফি খেয়েছেন, যা তাঁর খুব ভালো লেগেছে। এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ।
তেরি পারসন বলেন, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে এসে বুঝেছি, সরল মানুষ কতটা হৃদয়বান হতে পারে। আমেরিকায় জীবন বিলাসী ও ব্যয়বহুল, কিন্তু এখানে মানুষ খুব সাধারণভাবে বাঁচে, আর সেটাই অসাধারণ। আমি আবারও ৬ মাস পর বাংলাদেশে আসবো এবং আমার বন্ধুদের বলবো, বাংলাদেশে এসে ঘুরে যেতে। এটা সত্যিই এক চমৎকার দেশ।”
এখনও আরও ১১ দিন বাংলাদেশে থাকবেন তেরি পারসন। এই সময় তিনি গ্রামের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, আর বন্ধুত্বের এই গল্প হয়ে থাকছে দুই দেশের সেতুবন্ধনের এক অনন্য নিদর্শন।#
মন্তব্য করুন